Jubayer Mumin

Sunday, 14 April 2013

সময়ের ঋণ

সময়ের ঘোড়া ছুটে চলে দ্রুত
আমি রই পড়ে পিছু,
জীবনের কাছে ঋণী হয়ে থাকি
অর্জন নাই কোন কিছু।
কবে জানি সময় থমকে দাঁড়ায়
ডেকে বলে, ওরে নির্বোধ,
অনেক হয়েছে আর নয় তবে
জীবনের ঋণ করো শোধ...


(০২ জুন ২০১২)

এক্সপেরিয়া

এখন খুব আলতো স্পর্শেই তুমি জেগে উঠবে,
তোমার সাড়া পেতে খুঁচিয়ে আর কষ্ট দিতে হবে না।
একটি ভুল সময়ে অসভ্য এক জিগিসা,
আর একটি ভুল বাসনা, আরো কিছু ভুল।
অবশেষে আমি তোমায় পেলাম।

এখন খুব সামান্য ছোঁয়াতেই সাড়া দিবে তুমি,
আঙ্গুলের ছোঁয়ায় তোমার মুখের রঙ পাল্টে যাবে।
তোমার সামনের আর পিছনের চোখ,
তোমার দ্রুতগতির মস্তিষ্ক,
কৃষ্ণবর্ণের তোমার দেহ।
এ সবই আমায় টেনেছিল।

কালো কুচকুচে একটি দেহাবরণী নিয়েছি তোমার জন্য,
পাছে নষ্টেরা অথবা আবর্জনা হানা দেয় তোমার শরীরে।
সেথায় তুমি থাকবে সুরক্ষিত আর নিরাপদ।

একটি নাম দিব ভেবেছি তোমায়।
নাহ, তোমার এক্সপেরিয়া নামই সুন্দর।


(২৩ জুন ২০১২)

আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

সুদীর্ঘ পথ দিতে হবে পাড়ি
সব পিছুডাক সব মায়া ছাড়ি,
সব পিছুটান পিছে ফেলে চলি,
ধীরে চল ওগো, সময়কে বলি।

আপনাকে হারিয়ে আপনার মাঝে,
বিলুপ্ত আমিকে খুজে ফিরি সাঁঝে।
ফিরে ফিরে চাই অতীতের পানে,
আপনারে খুঁজি অপরের গানে।

তবু ছুটে চলি অসীমের দিকে,
অধরাকে নিব আপনার বুকে,
ছুঁতে হবে নীল, পণ করি রোজ,
অবিরাম চলি, কবে পাই খোঁজ...


(২২ জুন ২০১২)

অথবা কেবলি সময়ের প্রয়োজনে


দেখা হবে বন্ধু,
কারণে অকারণে
অথবা কেবলি সময়ের প্রয়োজনে।

দেখা হবে বন্ধু,
শল্যের থিয়েটারে
হয়ত টেবিলের এপারে ওপারে।

দেখা হবে বন্ধু,
সময়ে অসময়ে
হয়ত কেবলি লেনা-দেনার দায়ে।

দেখা হবে বন্ধু,
বিষাদে অবসাদে
হয়ত হারানো বেদনা ফেরার আনন্দে।

দেখা হবে বন্ধু,
জয়ে পরাজয়ে
হয়ত কোন এক কালের অবক্ষয়ে।

দেখা হবে বন্ধু,
সকালে সাঝেতে
হয়ত নিয়ত চলার পথেতে।

দেখা হবে বন্ধু,
গ্রীষ্মের দুপুরে
হয়ত কেবলি জীবিকার তরে।

দেখা হবে বন্ধু,
ফাগুনের আহ্বানে
হয়ত সমুদ্রপাড়ে জ্যোৎস্না-স্নানে।

দেখা হবে বন্ধু,
কারণে অকারণে
অথবা কেবলি সময়ের প্রয়োজনে।

(১৭ মার্চ ২০১২)

এবং অপেক্ষা


অস্থিরতা কিছুতেই শান্তি দিতে পারেনি,
কিছুটা প্রবোধ দিয়েছিল বটে,
তবুও পূর্ণতা সেথায় ছিল বিজিত।
সুখের পিছনে ছুটে ছুটে দু'পা যেদিন ধরে এসেছিল,
সেদিনও ছিলাম অপেক্ষায় এক চিলতে মিষ্টি তীব্র রোদের
যার তেজে ক্ষয়িষ্ণু পা দুটো আবার সজীব হয়ে উঠবে।
সেই অপূর্ণ স্বান্তনা আমায় ভালবেসে ফেলেছিল,
স্বান্তনার সে ভালবাসার অমর্যাদা করিনি আমি,
আজো অপেক্ষায় আছি,
শীতের তীব্রতা ঘামঝরা গ্রীষ্মের স্থান নিবে তা নয়,
কাকফাঁটা উষ্ণতা হাড়কাঁপা শীতলতার প্রতিযোগী হবে তাও নয়,
বরং গ্রীষ্মের শেষে কবে শরত্‍
আর শীতকে ছাপিয়ে কবে বসন্তের ফুল ফুটবে সকলের হৃদয়ে,
কবে সুখের প্রজাপতি এসে বসবে আমার স্থির কাঁধে...

জানুয়ারি ৩০, ২০১২

বিলাসিতা অথবা সুখ


বিলাসিতা বলল আমায়, ওগো,
তুমি নাকি সদাই সুখে থাকো?
আমি বলি, সন্দেহ কি তায়?
আবারো বলে, ভান করোনাগো,
কেমনে হবে আমি যেথায় নাই?

বিলাসিতা, যখন আমার ছিলে,
দুখ লুকাতে কেবল ঘোমটা ফেলে,
মনের দুঃখ মনেই যেত রয়ে,
মিটাতে না দুখতো মোটেই কিছ,
তোমার পিছেই ছুটেছি বেহুশ হয়ে।

এখন আমি সদাই থাকি সুখে,
মনের হাসিই ফুটে ওঠে মুখে,
সুখ আর দুখ আছে, আছে কিছু কষ্টও,
তবুও আমি সুখী কেন জানো?
মোর যা আছে তাতেই আমি তুষ্ট...

(১৩ জানুয়ারি ২০১২)

তার ছেঁড়া কবিতা-০৩/ মহীয়সীর ভালবাসা


আমিতো ভালবাসতে চেয়েছিলাম একজন সাধারণ কাউকে,
শীতল কণ্ঠের গানে কর্ণ শীতল না করুক,
অন্তত মুখ পানে চেয়ে তার কাটিয়ে দিতে পারব অনন্তকাল।

আমিতো ভালবাসা চেয়েছিলাম একজন সাধারণ কারো,
শত মানুষ আমাদের ভালবাসা দেখতে অপেক্ষা না করুক,
অন্তত অপেক্ষা সে করবে আমার ফেরার পথ চেয়ে।

আমিতো পেতে চেয়েছিলাম একজন সাধারণ কাউকে,
প্রত্যহ নানান স্বাদের রান্না করে না খাওয়াক,
অন্তত পরম মমতায় শুকনো মরিচে আলুভর্তা করে দেবে।

আমিতো কাছে চেয়েছিলাম একজন সাধারণ কাউকে,
দিন দিন নতুন পানীয়ে আমায় চমকে না দিক,
অন্তত অফিসফেরত আমাকে একগ্লাস ঠাণ্ডা জল এনে দিবে।

আমিতো ছুঁতে চেয়েছিলাম একজন সাধারণ কাউকে,
প্রতিদিন সকাল বিকাল ইনসুলিন দিয়ে না দিক,
অন্তত শাসন করে বলবে, ডায়েবেটিস! আর মিষ্টি খেয়ো না।

আমিতো ছোঁয়া চেয়েছিলাম একজন সাধারণ কারো,
নিয়ত নতুন কবিতায় আমায় মুগ্ধ না করুক,
অন্তত আমি তোমায় ভালবাসি প্রাচীন চরণটি শোনাবে বারংবার।

পুনশ্চঃ চেয়েছিলাম সাধারণ কাউকে,
পেয়েছি একজন মহীয়সীকে,
দয়ার সাগর সমাজসেবীকে হাজারো আর্তের দুখ ঘোচাতে হয়।

তার কিন্নর কণ্ঠের গানে মাতোয়ারা হয় হাজার শ্রোতা,
হৃদয়ছোঁয়া সব কবিতায় শত প্রেমিকের প্রেম উথলে ওঠে,
চিকন কটির নৃত্যে নেচে ওঠে হাজারো দর্শকমন,
অপেক্ষা করে শত ভক্ত একটি অটোগ্রাফের জন্য।
তাকে মনোরঞ্জন করতে হয় হাজারো ভক্তের,
আমার মত ক্ষুদ্র ভালবাসার কাঙালকে দেবার সময় কোথায় তার?

১৮ মার্চ ২০১২, ০২০০, ফমেক।

Saturday, 13 April 2013

তার ছেড়া কবিতা-০২/ নিগৃহীত অশ্রুঞ্জলি

কপোল গড়িয়ে ভূমিকে ছুঁয়ে দিয়েছিল অশ্রুগুলো,
ভূমি তাকে শুষে নিয়েছিল।
অতঃপর পানিচক্রের অনন্ত লীলায় মেঘে পৌঁছল তা।
বৃষ্টি হয়ে অশ্রুগুলো আছড়ে পড়েছিল তোমার টিনের চালে
বরষার কোন এক শোভিত সন্ধ্যায়।

বৃষ্টির জলে মুখ ধুয়েছিলে তুমি,
আমার অশ্রু স্পর্শ করেছিলো তোমার চক্ষু,
তাড়িয়েছিল তোমার মুখ হতে ক্লান্তির ছাপ।
জল ছুঁয়ে তুমি বলেছিলে, অসাধারণ!
তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখের ছবি তুলেছিল বিদ্যুৎ চমকানি,
প্রকৃতির অট্টহাসিতে চমকে উঠেছিলে তুমি। 

সেদিনের বৃষ্টিতে সাধারণ জল ছিল না,
বৃষ্টি হয়ে তোমায় স্পর্শ করেছিল আমার অশ্রু,
শুধু তুমি বোঝোনি,
সেটি বৃষ্টির জল ছিল না,
ছিল এক প্রত্যাখ্যাত প্রেমিকের নিগৃহীত অশ্রুঞ্জলি...।

(৩০ মার্চ ২০১২)

তার ছেড়া কবিতা-০১/ তবুও আমি শিখিনি

শৈশব আমারে শিখিয়েছে মাথায় ডাংগুলি মেরে কীভাবে কাঁদতে হয়,
অথচ বাবুল আমার চির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, আমায় যে সে হারিয়ে দিত।
দূর্বাঘাস হাতে ছেঁচে কাটায় লাগাতে আমার হাত কেঁপে উঠেছিল।
সে আমার বন্ধুই ছিল, বুঝেছি তখন।
বন্ধুত্বকে রেখেছি সবার উপরে, সকল ছোঁয়ার উর্ধ্বে।

কৈশোর আমারে শিখিয়েছে ফাস্টবয়ের জ্বরে কীভাবে ডাক্তার আনতে হয়,
অথচ মারুফ আমার চিরশত্রু ছিল, আমার রোল যে দুই ছিল।
টানা দু’ঘণ্টা জল ঢেলে জ্বর না কমায় ফুঁপিয়ে উঠেছিলাম।
বন্ধুত্ব কেবল গলায়-গলায় ভাবেই হয় না, বুঝেছি তখন।
বন্ধুদের ভালবেসেছি, বন্ধুত্বের দাম দিতে আমি শিখেছি।

চাতকের কাছে শিখেছি অপেক্ষা,
টোকাই বালকের কাছ থেকে স্বল্পে তুষ্টি।
দারিদ্র আমায় শিখিয়েছে মহানুভবতা,
কষ্ট আমায় বানিয়েছে সহিষ্ণু।

ফলবতী বৃক্ষের কাছে শিখেছি বিনয়ী হতে,
শিখেছি বটের কাছে নিজে পুড়ে অপরে ছায়া দিতে।
শরতের কাছে শিখেছি তপ্ত উষ্ণতা মিটিয়ে দিতে,
শিখেছি বসন্তের কাছে জীর্ণ গাছে ফুল ফোটাতে।

সমুদ্রের কাছে শিখেছি বিশালতা,
নীলিমার কাছে শিখেছি উদারতা,
তবুও আমি শিখিনি,
তবুও আমি যে শিখতে পারিনি
এতোটা উদার হতে
যেখানে ভালবাসার ভাগ দিতে হয়;
সবই ভাগ করা যায়,
তবু কভু ভালবাসা নয়...।

(২১ মার্চ ২০১২)

আমার প্রেয়সী এখন প্রকৃতই প্রগতিশীল...

কতবার তোমাকে বলেছি, নিজেকে সংযত কর।
আমি সংযতই আছি, বলে ততবার তুমি আমায় শুধরে দিয়েছ,
আমি কষ্ট পাইনি।
কষ্ট পাবো কেন, আমিইতো ভুল ছিলাম।

তোমার স্বর্গীয় সৌন্দর্য দেখে রাস্তার কুকুরেরা যখন জিভ চাটে,
তখনও আমি কষ্ট পাইনি।
টাইট জামায় তোমায় যখন তারা দেখে
আর চোখ দিয়ে মাপে তোমার স্তন কোমর আর নিতম্বের মাপ,
তখনও আমি কষ্ট পাইনি।
তোমার নিতম্বের ঝাঁকুনিতে যখন রাস্তার কুকুরেরা নাচে,
তখনও কষ্ট পাইনি,
বুঝতে পেরেছি আমার প্রেয়সীর ক্ষমতা,
নিতম্বের ঝাঁকুনিতেই সে কুকুরগুলোকে নাচাতে পারে।

তোমার বাহারি চুলের ফ্যাশন আর উন্মুক্ত পৃষ্ঠদেশ তারা দেখে
আর বলে, হায় সুন্দরী,
আমি তখনও কষ্ট পাইনি,
বুঝে নিয়েছি নিজে কতটা ভাগ্যবান
আমার প্রেয়সীর রূপের প্রশংসা সবাই করে।
মোড়ের শিয়াল আর শকুনগুলাকে যখন দেখেছি নয়ন দিয়ে তোমায় লেহন করতে
তখনও আমি কষ্ট পাইনি।
বুঝতে পারলাম তুমি নিজে দায়িত্ব নিয়েছিলে শিয়াল আর শকুনগুলোর ক্ষুধা মেটাবার
অথবা বাড়িয়ে দেবার।

আমি শুধু বলেছিলাম, সংযত হও।
তুমি বলেছিলে, তুমিতো আমায় মৌলবাদীদের মত ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখবে,
আমি বলেছিলাম, ফ্রিজেই জিনিস ভাল থাকে।
তুমি বলেছিলে, আমি মানুষ, আমি জিনিস নই, আমি স্বাধীনতা চাই।
স্বাধীনতার নামে ওরাই তোমাকে মানুষ থেকে জিনিস বানিয়ে ফেলেছে,
আমার এ কথা শুনে তুমি বলেছিলে, তুমি সেকেলে।

এই সেদিন হায়েনাগুলো যখন তোমায় কামড়ে কামড়ে খেল,
তখনও আমি কষ্ট পাইনি।
বুঝতে পারলাম আমার প্রেয়সী এবার প্রতিক্রিয়াশীলের অপবাদটা পুরোপুরি মুছতে পারল,
আমার প্রেয়সী এখন প্রকৃতই প্রগতিশীল।।

(২৭ নভেম্বর ২০১১)

জেনে নিন ডাক্তারের সততার সনদ (সবার জানা দরকার)

নচিকেতার "ও ডাক্তার" গানটি প্রথম শুনছিলাম তখন নবম শ্রেণীতে পড়ি। এর আগে জানতাম বাংলাদেশের ডাক্তাররা নাকি কসাই। ভারতে নাকি চিকিতসা সেবা খুব ভাল। এই গানটা শোনার পর ধারণাটা পাল্টে গেল। কিছু খারাপ মানুষ সব পেশাতেই আছে, সবখানেই আছে। একজন ডাক্তার তার পেশাগত নিবন্ধনের পূর্বে নিজেকে মানবতার সেবায় বিলিয়ে দেবার শপথ গ্রহন করে। এটি নিবন্ধন পাবার পূর্বশর্ত। যে ডাক্তার তার এই শপথ রক্ষা করতে পারে তাকে মানুষ থেকে কসাইতে পরিণত হতে হয় না। আসুন জেনে নেই ডাক্তারের সেই শপথ...



Physician's Oath



At the time of being admitted as a member of the medical profession:



* I solemnly pledge myself to consecrate my life to the service of humanity;

* I will give to my teachers the respect and gratitude which is their due;

* I will practice my profession with conscience and dignity; the health of my patient will be my first consideration;

* I will maintain by all the means in my power, the honor and the noble traditions of the medical profession; my colleagues will be my brothers;

* I will not permit considerations of religion, nationality, race, party politics or social standing to intervene between my duty and my patient;

* I will maintain the utmost respect for human life from the time of conception, even under threat, I will not use my medical knowledge contrary to the laws of humanity;

* I make these promises solemnly, freely and upon my honor.





(Adopted by the General Assembly of the World Medical Association, Geneva, Switzerland, September 1948 and amended by the 22nd World Medical Assembly, Sydney, Australia, August 1968.)



(খুব সহজ ভাষায় লেখা, তাই ওনুবাদ করার প্রয়োজন বোধ করলাম না)



আগামীতে রোগির ওধিকার (Patient's Right) নিয়ে একটা পোস্ট দিব ইনশাললাহ...

(১৪ এপ্রিল ২০১১)

রক্তের বন্ধনে মুছে যাক জীবনের ধূসর ক্লান্তি...

ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে একবার "সন্ধানী, খুলনা মেডিকেল কলেজ ইউনিট" কে সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী আয়োজন করতে দেখেছিলাম। সাদা পোশাক (তখন জানতাম না এটার নাম Apron) দেখে ভেবেছিলাম এরা বুঝি সব ডাক্তার। তখন গ্রামের মাদরাসাতে পড়তাম, তাই ডাক্তার হবার স্বপ্ন দেখাটা স্বপ্নের চেয়ে অবাস্তব ছিল। মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবার পর এনাটমি বিভাগের সাথে "মেডিসিন ক্লাব"-এর অফিস হওয়ায় ভৌগোলিক কারণে প্রথমেই পরিচিত হই এর সাথে। অল্প দিনের মধ্যেই নিজেকে পুরোদস্তুর মেডিসিনিয়ান হিসেবে আবিষ্কার করলাম। দেখলাম এখানে ভাইয়া আপুরা নিজেরা নিয়মিত রক্ত দেয়। নিজে প্রথম রক্ত দিলাম ২২শে জুলাই ২০০৯। প্রথমবার রক্ত দেবার সময় সত্যিই অনেকটা ভয় পেয়েছিলাম। রক্ত দেয়া শেষে দেখলাম এটা কোন ব্যাপারই না, একটুও ব্যথা লাগে না, কেবল মোটা সূচটা দেখে একটু ভয় লাগে। ২য় বার ২২শে ডিসেম্বর ২০০৯, ৩য় বার ২৯শে এপ্রিল ২০১০, তারপর ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০১০। আগের ৪ বার মেডিসিন ক্লাবে রক্ত দিলেও গতকাল রক্ত দিয়েছি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে বই মেলায়। প্রত্যেকবার রক্ত দেই আর ভাবতেই ভাল লাগে আমার এই রক্ত দিয়ে বেঁচে যাবে অসহায় একটি জীবন।



আপনারাও যারা রক্ত দেবার যোগ্য তারা প্রতি ৪ মাস পর পর স্বেচ্ছায় রক্ত দান করতে পারেন যেকোন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে অথবা আপনার কোন বন্ধু বা আত্মীয়কে যার রক্তের প্রয়োজন। যে রক্তটা আপনার শরীর থেকে এমনিতেই নষ্ট হয়ে যেত, সেটা দিয়ে আরেকজনের উপকার হলে ক্ষতি কী?



আপনি রক্ত দিতে পারবেন আপনার...

#বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বসরের মধ্যে হয়

#ওজন কমপক্ষে ৫০ কেজি (মেয়েদের ক্ষেত্রে ৪৫ কেজি) হয়

#একবসরের মধ্যে বড় কোন অপারেশন না করিয়ে থাকেন বা রক্ত গ্রহন না করে থাকেন

#এক মাসের মধ্যে কোন ভ্যাক্সিন না নিয়ে থাকেন

#এক সপ্তাহের মধ্যে দাত না উঠিয়ে থাকেন

#এক সপ্তাহের মধ্যে কোন Antibiotic গ্রহন না করে থাকেন

#মেয়েদের ক্ষেত্রে, ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে ও দুগ্ধপোষ্য শিশু থাকলে রক্ত দিতে পারবেন না।



আসুন আমরা সবাই মানবতার সেবায় এগিয়ে আসি। কোন ব্লগার ফরিদপুরে রক্ত দানে ইচ্ছুক হলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আর যারা ঢাকায় থাকেন তারা সন্ধানী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইউনিট বা অন্য যে কোন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। পরিশেষে এই কামনা, রক্তের বন্ধনে মুছে যাক জীবনের ধূসর ক্লান্তি...

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১১